আরডব্লিউএ টোকেনাইজেশন

হংকংয়ে বাস্তব সম্পদের ডিজিটাল রূপান্তরে ক্রমবর্ধমান আগ্রহ নিয়ে বেইজিংয়ের উদ্বেগ

হংকংয়ের কিছু ব্রোকারেজ প্রতিষ্ঠানকে আপাতত বাস্তব সম্পদ বা রিয়েল-ওয়ার্ল্ড অ্যাসেট (আরডব্লিউএ) টোকেনাইজেশন ব্যবসা বন্ধ রাখার পরামর্শ দিয়েছে চীনের সিকিউরিটিজ নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিএসআরসি।

হংকংয়ের কিছু ব্রোকারেজ প্রতিষ্ঠানকে আপাতত বাস্তব সম্পদ বা রিয়েল-ওয়ার্ল্ড অ্যাসেট (আরডব্লিউএ) টোকেনাইজেশন ব্যবসা বন্ধ রাখার পরামর্শ দিয়েছে চীনের সিকিউরিটিজ নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিএসআরসি। বিষয়টির সঙ্গে যুক্ত দুটি সূত্রের বরাত দিয়ে রয়টার্স জানিয়েছে, ডিজিটাল সম্পদ নিয়ে হংকংয়ে দ্রুত বাড়তে থাকা আগ্রহে বেইজিং উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। খবর রয়টার্স।

আরডব্লিউএ টোকেনাইজেশন হলো এমন একটি প্রক্রিয়া, যেখানে শেয়ার, বন্ড, তহবিল কিংবা রিয়েল এস্টেটের মতো প্রচলিত সম্পদকে ব্লকচেইন প্রযুক্তির মাধ্যমে ডিজিটাল টোকেনে রূপান্তর করা হয়। প্রতিটি টোকেন আসলে সেই সম্পদের মালিকানা বা অংশীদারত্বের প্রতিনিধিত্ব করে। পরে এগুলো ব্লকচেইনভিত্তিক প্লাটফর্মে লেনদেনযোগ্য হয়ে ওঠে। ফলে সম্পদ কেনাবেচা হয় দ্রুত, স্বচ্ছ ও নিরাপদভাবে। বড় সম্পদকে ছোট ছোট টোকেনে ভাগ করে দেয়ার কারণে সাধারণ বিনিয়োগকারীরাও এতে অংশ নিতে পারেন।

গত কয়েক মাসে হংকংয়ে একাধিক চীনা ব্রোকারেজ রিয়েল-ওয়ার্ল্ড অ্যাসেট টোকেনাইজেশন পণ্য চালু করেছিল। তবে সম্প্রতি অন্তত দুটি বড় ব্রোকারেজকে অনানুষ্ঠানিকভাবে সতর্ক করেছে চায়না সিকিউরিটিজ রেগুলেটরি কমিশন (সিএসআরসি)। তাদের জানানো হয়েছে, নতুন ধরনের এ ব্যবসায় অবশ্যই ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা রাখতে হবে। এছাড়া কোম্পানিগুলো যে দাবি করছে, তা যেন শক্ত ও বৈধ ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত হয়, সেটিও নিশ্চিত করতে হবে।

এ ঘোষণার প্রভাব সঙ্গে সঙ্গেই পড়েছে হংকং শেয়ারবাজারে। সেখানে তালিকাভুক্ত শীর্ষ চীনা ব্রোকারেজগুলোর মধ্যে স্থানীয় সময় মঙ্গলবার সকালে গোটাই জুনান ইন্টারন্যাশনাল ও জিএফ সিকিউরিটিজের শেয়ারের দাম কমেছে ২ থেকে ৭ দশমিক ২৫ শতাংশ পর্যন্ত। অন্যদিকে হংকংয়ের সামগ্রিক শেয়ারসূচক নেমেছে দশমিক ৯ শতাংশ।

হংকং এখন নিজেকে এশিয়ার ডিজিটাল সম্পদের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার চেষ্টা করছে। এ উদ্যোগের অংশ হিসেবে অনেক প্রতিষ্ঠান প্রস্তুতি নিচ্ছে। বিশেষ করে চীনা ব্রোকারেজগুলো ভার্চুয়াল সম্পদ বাণিজ্য, বিনিয়োগ পরামর্শ ও সম্পদ ব্যবস্থাপনা চালুর পরিকল্পনা করছে।

অন্যদিকে মূল ভূখণ্ড চীন এখনো সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। ২০২১ সালে দেশটি ক্রিপ্টোকারেন্সি লেনদেন ও মাইনিং সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করে। এর মাধ্যমে আর্থিক ব্যবস্থার স্থিতিশীলতায় সম্ভাব্য ঝুঁকি ঠেকানো হয়।

চীনের নিয়ন্ত্রক সংস্থা সম্প্রতি স্থিতিশীল মুদ্রা বা স্টেবলকয়েন নিয়ে ইতিবাচক গবেষণা প্রকাশ বন্ধ করারও নির্দেশ দিয়েছে বড় ব্রোকারদের। এর আগে দেশজুড়ে স্টেবলকয়েনে বিনিয়োগ বাড়তে শুরু করেছিল।

হংকং অবশ্য বিষয়টিকে ভিন্নভাবে দেখছে। দেশটির ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস অ্যান্ড ট্রেজারি ব্যুরো (এফএসটিবি) ও হংকং মনিটারি অথরিটি (এইচকেএমএ) এরই মধ্যে আরডব্লিউএ টোকেনাইজেশন নিয়ে আইনি পর্যালোচনা শুরু করেছে। তাদের বক্তব্য, এ বিষয়ে আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগানো হবে।

এইচকেএমএর মুখপাত্র বলেন, ‘টোকেনাইজেশন খাত দ্রুত পরিবর্তনশীল। আমরা সম্ভাব্য ব্যবহার খুঁজে দেখতে প্রজেক্ট এনসেম্বল পরিচালনা করছি। এক্ষেত্রে আইনি পর্যালোচনার প্রথম ধাপ হবে বন্ড মার্কেটকে কেন্দ্র করে।’

বর্তমানে বৈশ্বিক আরডব্লিউএ টোকেনাইজেশন বাজারের আকার প্রায় ২ হাজার ৯০০ কোটি ডলার। ইউএনডিপির হিসাব অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে এটি বেড়ে ২ ট্রিলিয়ন বা ২ লাখ কোটি ডলার ছাড়াতে পারে।

এরই মধ্যে কয়েকটি কোম্পানি হংকংয়ে কার্যক্রম শুরু করেছে। জুনে জিএফ সিকিউরিটিজের হংকং ইউনিট চালু করেছে ‘জিএফ টোকেনস’। এগুলো ডলার, হংকং ডলার ও অফশোর রেনমিনবির দামে নির্ভর করে আয়ের সুযোগ তৈরি করে। অন্যদিকে চায়না মার্চেন্ট ব্যাংকের সহযোগী সিএমবিআই গত মাসে ৫০ কোটি ইউয়ান অর্থ সংগ্রহ করেছে একটি আরডব্লিউএভিত্তিক ডিজিটাল বন্ড ইস্যুর মাধ্যমে।

তবে সিএসআরসির নতুন নির্দেশনা কতদিন কার্যকর থাকবে তা এখনো জানা যায়নি। সংশ্লিষ্ট কোনো সংস্থা এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি।

আরও